এনজিও‘র ঋণের টাকার বোঝার ভার বইতে না পেরে আত্মহত্যা করলো শিশু ফয়সাল

এনজিও‘র ঋণের টাকার বোঝার ভার বইতে না পেরে আত্মহত্যা করলো শিশু ফয়সাল

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন :

এজিওর ঋণের টাকার বোঝার ভার বইতে না পেরে আত্মহত্যা করলো শিশু ফয়সাল (১৪)। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বুধবার সকাল ১১টায় গজারিয়া উপজেলার ভবেরচরূ কলেজ রোড় এলাকায়।

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার কলেজ রোডের মোজাম্মেলের বাড়ির ভাড়াটিয়ার ছেলে ফয়সাল (১৪) ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আত্ম হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঋণের বোঝা বইতে না পেরে নিজেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে নিলো ফয়সাল। ফয়সাল (১৪) পোড়াচক এলাকার আলী আকবরের ছেলে। বুধবার সকাল ১১টার সময় মায়ের কাছ থেকে ৫০ টাকা চেয়ে নেয় ফয়সাল। পরবর্তীতে মা যখন ঘর থেকে বের হয়ে অন্য ঘরে চলে যায় সেই সুযোগে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে পরে ফয়সাল। মা অন্য ঘর থেকে পান খেয়ে ঘরে এসে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। দরজা ভেঙ্গে দেখে ছোট ছেলে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে রয়েছে। তখনই পরিবারটির বাকী সদস্যদের কান্নায় এলাকার আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে।

স্থানীয় লোকজনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ফয়সালের জন্মের পরপরই বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করলে দুই ছেলে এক কন্যা নিয়ে ১৪বছর পূর্বে চলে আসেন কলেজ রোড় এলাকার ভাড়া বাসায়। সেখান থেকে ছেলে মেয়েদের মানুষ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। বড় ছেলে রাসেল (১৬) ঢালাই কাজের শ্রমিক। মেয়ে আসমা (১২) জেএমআইয়ে কাজ করে, মা ফিদা পাম্পে কাজ করে। ফয়সাল অটো রিক্সা চলাইতো। পপি সমিতির ৫০ হাজার টাকা ঋণ, ব্রাকে ১ লাখ ঋণ, বুরো টাঙ্গাইল ৫০ হাজার, আশা এনজিওতে ৩০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ২লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ। প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন পরিবারের ৪সদস্য মিলে। ১১ কিস্তি থেকে ৭কিস্তি পরিশোধ করার পর বাকী ৪ কিস্তি ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি।

কিস্তির টাকা তুলে এ পর্যন্ত ৩ টা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ক্রয় করে। গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ দুটি গাড়ি আটকায় এবং ব্যাটারী বিক্রি করে দেয়। পরবর্তীতে আরো একটি গাড়ি ক্রয় করে ৯০ হাজার টাকায়। সেই গাড়িটিও হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এনজিও থেকে ঋণ করে গাড়ি কিনে চালাতে তো পারেইনি বরং বেরসিক হাইওয়ে পুলিশ এই গরীব পরিবারের ৩টি রিক্সাই এক এক করে নষ্ট করে ফেলে। ফলে নি:স্ব হয়ে যায় পরিবারটি। ###