ইউএনও’র বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগকারী ৬জনের অস্বীকার, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন:
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে করা তিন পাতার এই অভিযোগের দুর্নীতি, অনিয়ম, অফিসে শেয়ার ব্যবসার ব্যস্ততা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীও আখ্যা দেয়া হয়েছে। এমন সংবাদ প্রকাশের পর গজারিয়ার সাধারণ মানুষের মাঝে হইচই পড়ে যায়। পরবর্তীতে খোজ নিয়ে জানা যায়, অভিযোগকারীরা অভিযোগ না করলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে ছয় জনের নাম ব্যবহার করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এখানে অভিযোগকারী কে তাও পাওয়া যায়নি। আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের ছয় জনের নাম ব্যবহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অভিযোগের খবরে হাস্যরসের খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে গজারিয়ায়। দিনভর এই সংবাদ নিয়ে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন কার্যলয়ে, রসুলপুর ঘাটে, গজারিয়া ঘাটে, ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডে, হোসেন্দি বাজারে, জামালদি বাসস্ট্যান্ডে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বাইছে। এক দিকে ছয় জনের নাম ব্যবহার করে অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ অপরদিকে ছয়জনেরই অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার। তারা যদি অভিযোগ করে না থাকে তবে অভিযোগটা করলো কে?

অভিযোগকারীর মধ্যে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব ভূইয়া বলেন, আমি অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমি এ ধরনের কোন অভিযোগ করিনি। অভিযোগকারী ছয় জনের মধ্যে তিনজন আমাদের আওয়ামীলীগের বিপরীত গ্রুপের। প্রশ্নই উঠে না তাদের সাথে মিলে অভিযোগ করার।

বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান জুয়েল জানান, আমি বালুয়াকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান। আমাকে টেংগারচর ইউপি চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে। এই অভিযোগের সাথে কোনভাবে আমি সম্পৃক্ত না। আমি জানিই না। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বাউশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রধান জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ করেছি এমন একটি সাংবাদ একটি পত্রিকায় আসছে কিন্তু আমি কোন অভিযোগ করিনি। এই অভিযোগের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই।

ভবেরচর ইউপি আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অভিযোগের বিষয় আমি অবগত নই। কে বা কারা আমার নাম দিয়ে অভিযোগ করেছে তা আমার জানা নেই।

হোসেন্দি ইউপির আওয়ামলীগ নেতা ডাক্তার মাজহারুল ইসলাম তপন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামের কোন অভিযোগের সাথে আমি নাই বা ছিলাম না। জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

গুয়াগাছিয়ার কাওছার আহমেদ খানের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গজারিয়া উপজেলার আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপের মধ্যেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই গ্রুপের কোন নেতা বা আওয়ামীলীগের কোন চেয়ারম্যান অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার না করায় চায়ের দোকান থেকে শূরু করে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে। ছয় জনের কেউই অভিযোগ করলো না তবে ছয় জনের নাম ব্যবহার করে কে এই অভিযোগটি দায়ের করেছে।

অভিযোগে অভিযুক্ত গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান সাদী বলেন, “অভিযোগগুলো অসত্য, ভুল। ভুলে ভরা এসব অভিযোগ। যারা অভিযোগ করেছে তারা প্রমাণ করুক। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে ব্যবস্থা নিবে। আমার বিরুদ্ধে যা অভিযোগ তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।###