গজারিয়ায় অভিনব প্রতারণায় মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ জনরোষ ইউপি সদস্য ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখল জনতা

গজারিয়ায় অভিনব প্রতারণায় মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ জনরোষ ইউপি সদস্য ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখল জনতা

 

গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে সেলিম দাউদ (৩৫)নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে এলাকাবাসী কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আজ উত্তেজিত জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে ওই ইউপি সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেবার আশ্বাস দিলে তারা বাড়ী ফিরে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়নটির ০৮ ওয়ার্ড সদস্য সেলিম দাউদ বিভিন্ন সময় সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেয়া, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি অনুদানের ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে এলাকাবাসীর কাছ মোটা অংকের টাকা আদায় করে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাবার পরও কথা অনুযায়ী সে ভুক্তভোগীদের সুবিধা আদায় করে দিতে না পারায় আজ ভুক্তভোগী প্রায় শতাধিক নারীপুরুষ ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে তাকে প্রায় ২ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ খান জিন্নাহ ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেবার আশ্বাস দিলে পরিস্তিতি শান্ত হয়।

ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম জানান, সরকারি ঘর পাইয়ে দেবার নাম করে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ তার কাছ থেকে দশ হাজার টাকা আদায় করে। তবে দীর্ঘদিনেও ঘর না পাওয়ায় আজ তিনি টাকা ফেরত পেতে ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসেছেন।

আরেক ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ইলিয়াস হোসেন জানান, প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেবার নাম করে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সে ভাতা পাইনি।

শেফিলী রাণী, মৌমিতা রাণী,খোরশেদা,মাফিয়া বেগম সহ আরো প্রায় বিশ জন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে,তারাও একই কথা জানান। সবার কাছ থেকেই বিভিন্ন সরকারি সুবিধাদি পাইয়ে দেবার নাম করে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে ইউপি সদস্য সেলিম দাউদ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সেলিম দাউদের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ সময় তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে।

বিষয়টি সম্পর্কে ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মোঃ মসনুর আহমেদ খান জিন্নাহ বলেন, বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত তবে ভুক্তভোগীরা যাতে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায় এ ব্যাপারে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন তিনি।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদী জানান, লোক মারফত বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেননি। যদি ভুক্তভোগী কেউ ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তার নিকট আবেদন করেন তবে যথা আইন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা বিচার করা হবে না।###