গজারিয়া উপজেলার নাম মনি উপজেলা নামকরনের প্রস্তাব

গজারিয়া উপজেলার নাম মনি উপজেলা নামকরনের প্রস্তাব

আল মামুন জাহাঙ্গীরঃ
বৃটিশ আমলে পশ্চাদপদ পূর্ব বাংলার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সর্বশেষ সোপান ছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তখন গোটা পাক ভারতে মুসলিম জাগরণের কেন্দ্রস্থল আলীঘর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার ছিল।দাদা দায়েম উদ্দিন সরকারের মত শিক্ষা অনুরাগীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল বড় ছেলে মনির হোসেনকে আলীঘর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মেঝ ছেলে কফিল উদ্দিনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো।সে যাই হোক , মনির হোসেন সেখান থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে ভারতবর্ষের যে কোন স্থানে মর্যাদাপূর্ণ চাকরী নেওয়া কঠিন ছিলনা।কিন্তু তিনি বড় চাকরীর লোভ পরিহার করে, বাড়ি-গাড়ী ও বিলাসবহুল জীবনের আহবানকে অগ্রাহ্য করে সারাটা জীবন গজারিয়াবাসীর কল্যানে কাটিয়ে দিলেন।তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় গজারিয়া একটি স্বয়ংসম্পুর্ন উপজেলার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক গজারিয়ার বুক চিরে নির্মিত হয়।এগুলি আদায় করার জন্য তাঁকে যে কত প্রতিকুল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বর্ননা আমার রচিত” গজারিয়ার প্রান পুরুষ মনির হোসেন জাহাঙ্গীর” বইতে আছে।আগ্রহী পাঠকদের এই বইটি পাঠের অনুরোধ করছি।আজ আমরা গজারিয়ার যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখছি তা তাঁর সুদূর প্রসারী চিন্তা -চেতনা ও প্রচেষ্টার ফসল।
আজ কাল যে কোন সময়ে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম যেতে নাই কোন বাঁধা। কিন্তু ভেবে দেখুন ,১৯৫৪ সালের পূর্বের কথা। তখন গজারিয়া ছিল বাংলাদেশ ভুখন্ড হতে আলাদা, চারিদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত।খুব ভোরে নৌকা বা গয়না দিয়ে মুন্সিগঞ্জ এবং নারায়নগঞ্জ হয়ে ঢাকা যেতে হত। নেহায়েত কোন জরুরী কাজ ছাড়া কেউ গজারিয়ার বাহিরে যাবার সাহস করত না।এই মহাসড়ক গজারিয়ার উপর দিয়ে যদি না যেত তবে আমরা আজও গোটা দেশ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতাম।তখন সরকার এখানে শিল্প নগরী স্খাপনের পরিকল্পনা নিত না এবং উন্নয়নের জোয়ারও বইত না।আমরা গ্রামে থেকে শহরের সকল সুবিধা ভোগ করতে পারতাম না।
আমাদের দৃষ্টি আরেকটু প্রসারিত করলে দেখতে পাব যে আজকের আধুনিক সোনার গাঁও ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কেরই অবদান।এ মহাসড়ক প্রস্তাবিত মেঘনা উপজেলার উপর দিয়ে গেলে ঈসা খাঁর রাজধানী হয়ত মৃতপুরী হয়ে থাকত। এ সড়কের বদৌলতে ঢাকার সাথে যোগাযোগ এমন হয়েছে যে শুধু ঢাকার লোকেরাই নয় দেশের দূর-দুরান্ত হতে প্রত্যেহ হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়ে থাকে।সোনার গাঁও আজ নবরূপে সজ্জিত হচ্ছে। দিনে দিনে মানুষের বিনোদনের কেন্দ্রে পরিনত হচ্ছে।এমন কি অল্প আয়েসে , অল্প খরচে সাধারন মানুষেরও তাজমহল দেখার স্বাদ মিটাতে পারছে,ভারতে যাবার আর্থিক ও দৈহিক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়না। তাই এরূপ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন লোকের অবদান অবহেলায় ধুয়ে মুছে ফেলতে পারিনা। একে সযত্নে সংরক্ষিত করার দায়িত্ব কৃতজ্ঞ গজারিয়াবাসীর, গোটা দেশবাসীর।এ দায়িত্ব আমরা আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করতে পারলেই ভবিষ্যতে নি:স্বার্থ দেশপ্রেমিকের জন্ম হবে।
আব্বার কাছ থেকে আমরা নির্লোভ এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধের শিক্ষা পেয়েছি।আমার কর্মজীবন গজারিয়া হতে বহু দূরে দূরে কেটেছে বলে গজারিয়ার জনগনের কোন সেবা করার সুযোগ ঘটেনি।তাই গজারিয়াবাসী আমাকে স্মরনে রাখবে এরূপ প্রত্যাশাও করিনা তবে কেহ যদি আমার অক্ষমতাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে তবে সেটা আলাদা কথা। কিন্তু আব্বার এই অবদানের কথা, গজারিয়াবসীর প্রতি তাঁর ভালবাসা হারিয়ে যাবে ,তাঁর সন্তান হয়ে চুপটি করে বসে থাকব, তা হয় না।আমি কর্মজীবনে প্রবেশ করার আগেই তিনি ইন্তেকাল করাতে তার খেদমত করার সুযোগ ঘটেনি। ভবিষ্যত প্রজন্মকে যদি তার বিলুপ্ত প্রায় অবদানের কথা স্মরন করাতে পারি এবং তাঁর স্মৃতি চির জাগরুক রাখতে পারি তবে মনে করব পিতৃ ঋন কিছুটা হলেও শোধ হল। তাই চাইনা কোন অর্থনৈতিক পুরষ্কার কিংবা রাষ্ট্রীয় উপাধী, চাই শুধু তার অবদানকে জিয়িয়ে রাখার স্থায়ী ব্যবস্থা।
গজারিয়া উপজেলা নামটা কোন মহান ব্যক্তি,গোষ্টি বা দলের নয় এবং এটা চমকপ্রদ অর্থও বহন করেনা। তাই এই নামটা পরিবর্তন করে মনির হোসেন জাহাঙ্গীরের ডাক নাম মনি অনুসারে “মনি উপজেলা “রাখলে কারো আপত্তি করার তো কথা নয় বরং ভাল কাজের যথোপযুক্ত প্রতিদানের প্রথা চালু হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম সমাজ সেবায় অনুপ্রানিত হবে। সিদ্ধান্তকারী যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবটি সহৃদয়তার সাথে বিবেচনার জন্য সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। এ দাবী আজ আমাদের পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁর অবদানে যারা আজ উপকৃত, তাদের মধ্যেও প্রসারিত।
বি. দ্র: টেককৃত যে কোন সংস্থা বা যে কোন ব্যক্তি প্রস্তাবটি গজারিয়া উপজেলা কতৃক আয়োজিত আসন্ন সংবর্ধনা সভায় উত্থাপন করলে কৃতজ্ঞ থাকব।ব্যাপক প্রচারের জন্য টেককৃত সংস্হাগুলি তাদের খবরে প্রস্তাবটি প্রকাশের অনুরোধও রইল।