পুরান বাউশিয়া-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা!

পুরান বাউশিয়া-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা!

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়া-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কটি পাকা না করায় এ কাচাঁ রাস্তায় ছোট যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংলগ্ন গজারিয়া উপজেলার এ এলাকার হাজারো মানুষ পুরান বাউশিয়া-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়ক দিয়ে ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড ও ভবেরচর বাজারে যাওয়া আসা করে। বৃষ্টি হয়েছে তো ১০হাজার গ্রামবাসীর ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। একমাত্র সংযোগ সড়কটির বেহাল দশায় নাকাল অত্র অঞ্চলের ১০হাজার সাধারণ মানুষ। শনিবারের বৃষ্টিতে সড়কটির দুর্দশা এমন হয়েছে যে, ব্যাটারি চালিত রিক্সা তো দূরের কথা হেটেও চলাচল করা যায়না এই সড়কটি দিয়ে।

সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী একাধিক গ্রামবাসী জানান, বাউশিয়া ইউনিয়নের সকল লোকজন, পুরান বাউশিয়া, মনারকান্দি, কুটিপাড়া, দক্ষিন পাড়া, বক্তারকান্দিসহ আরো কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে যাতায়াত করেন এ সড়ক দিয়ে। একটু বৃষ্টিপাত ঘটলেই এই সংযোগ সড়কটি দিয়ে সম্পূর্ণরূপে চলাচলে অযোগ্য হয়ে যায়। এমনভাবে কর্দমক্ত হয়ে যায় যে, গাড়ির চাকা আর সামনের দিকে চলে না। বর্তমানে সড়কটির অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই ছোট যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে যাতায়াত করতে হয় ভবেরচর বাজারে। ব্যাটারি চালিত রিক্সার ড্রাইভারদের অভিযোগ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করা নিষিদ্ধ, তারপরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ধরা পড়লে রিক্সার ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায় হাইওয়ে পুলিশ। এখন বিকল্প সড়কটিরও এমন দুর্দশা। গাড়ি নিয়ে ভবেরচর যাওয়ার আর কোন সড়ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে আমরা ও সাধারণ যাত্রীরা।

গত বছরের ২৬ এপ্রিল পুরান বাউশিয়া টু আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কটি উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত আসনের স্থানীয় এমপি ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। এর পরে আর কোন সংস্কার না করায় সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।Road pic-2

এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা জানায়, সড়কটির কিছু অংশে ইট বিছিয়ে দিলেও অর্ধেকের ও বেশী অংশে সড়কে ইট বিছানো হয়নি। এসব কারনে সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। এ অবস্থায় কখনো কখনো স্থানীয় চালকরা স্বেচ্ছা শ্রমে সড়কটির সংস্কার করলেও বৃষ্টিপাত হলে রাস্তাটি দু পাশ ভেঙ্গে পড়ে যায়। রাস্তাটির পাকা করার দাবী তুললেও বিষয়টি আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রী, চালক ও পথচারীরা।

এ সড়ক দিয়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে যেতে হলে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। একবার বৃষ্টির ছোঁয়া লাগলেই তৈরি হয় খানাখন্দ।পুরান বাউসিয়ার ব্যাংক কর্মকর্তা শাহজালাল সরকার বলেন, বাউশিয়া বাসী ভবেরচর বাজারে গেলে মহাসড়ক দিয়ে যেতে হয় আর এ মহাসড়ক দিয়ে বাজারে গিয়ে পুরান বাউশিয়ার অনেক মানুষের প্রাণ হানীর ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করে জীবন যাপন করছেন। ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচরংশে বেশীর ভাগ সড়ক দূঘর্টনা ঘটে। ২০০ ব্যাটারি চালিত রিক্সার ব্যাটারি খুলে নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এই ভয়ে মহাসড়ক দিয়ে আর চলাচল করছে না এ সকল যানবাহন। ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড ও বাজারে যাওয়ার বিকল্প পুরান বাউশিয়া-আব্দুল্লাহপুর সংযোগ সড়কটি সংষ্কার হলে সড়ক দুঘটর্নায় প্রাণ হানীর সংখ্যা অনেকাংশে কমে আসবে।