ভবেরচর-রসুলপুর সড়কটি যেন একটি খাল

ভবেরচর-রসুলপুর সড়কটি যেন একটি খাল

 

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন:
গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর টু রসুলপুরের সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-সুরকি ওঠে গিয়ে বড় গর্ত ও খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায়ই ছোট বড় যানবাহন গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ফলে আহতদের সংখ্যাও বাড়ছে আশংঙ্কাজনক হারে। সড়কটি দেখতে এমন হয়েছে এটি যেন একটি খাল।

তাই ভুক্তভোগীরা অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার কিংবা পুণঃনির্মাণে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।Pic-2, date-10-06-2019

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর আগে রোড এন্ড হাইওয়ের তত্বাবধানে ভবেরচর টু মুন্সীগঞ্জ সড়কটি সংস্কারের কাজ চলছে। কিন্তু খানাখন্দক রেখে যেখানে কোন সংস্কার প্রয়োজন নাই সেখানে নতুন সড়ক তৈরী করা হচ্ছে। সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইটও উঠে গিয়ে ছোট বড় কয়েকশত গর্ত ও খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে শতশত ট্রাক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, লড়ি, সিএনজি, অটোরিকসাসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। ফলে প্রতি নিয়তই এ সড়কের কোন না কোন স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ দিকে ভবেরচর এলাকার গজারিয়া থানার সামনে থেকে হাসপাতাল থেকে ভবেরচর বাজার পর্যন্ত চলার জন্য পুরোপুরি অনুপযোগি হয়ে গেছে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। ভবেরচর বাজার থেকে রসুলপুরের মাঝের কিছু অংশ ঢালাই কাজ হলেও সেটা অর্ধেকাংশে করায় ভোগান্তি আরো চরম আকার ধারণ করেছে। খুব আস্তে আস্তে সড়কটির কার্যক্রম হওয়ায় গজারিয়ার ৮টি ইউনিয়ন ও মুন্সীগঞ্জের লোকজন এই সড়কটি দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। গজারিয়া হাসপাতাল থেকে ভবেরচর ব্রীজ পর্যন্ত কোনভাবেই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা সম্ভব নয়। একটু বৃষ্টি পরলেই বড় বড় গর্তের পানি জমে খালে পরিণত হয় সড়কটি। এতে জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এসব দেখার যেন কেউ নেই। এই সড়ক দিয়ে কোন রোগী নিয়ে আসা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন একাধিক গাড়ির ড্রাইভার।

ভবেরচরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাউছার আহমেদসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভবেরচর টু মুন্সীগঞ্জ সড়কটি জরাজীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা থাকলেও কতৃপক্ষ কেন যে উদাসিন তা আমাদের বোধগম্য নয়। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে দুর্ঘটনা রোধ করে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান।

মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরান রায় জানান, মোট তিনটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে মুন্সীগঞ্জ সদর পর্যন্ত তিনটি ভাগে ১২.৬০ কিলোমিটার সড়কের কাজটি পেয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান গজারিয়া উপজেলার প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ পেয়েছে; এর মধ্যে ৯৫০ মিটার আরসিসি ঢালাই হচ্ছে। আর বাকি রাস্তা কার্পেটিং হবে। ঈদের ছুটিতে লোকজন বাড়িতে গেছে। এখন পর্যন্ত আসেনি। শ্রমিকরা আসলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবেরচর থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কটির কাজ ধরা হবে।

তিনি বলেন, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় রাস্তার কাজ একটু ধীরগতিতে এগোচ্ছে। আর কার্পেটিং রাস্তার কাজ শুরু হতে আরো ৬ মাস লাগবে। এই বর্ষা মওসুম শেষ হলে কার্পেটিং রাস্তার কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।