গজারিয়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ॥ গর্ভবতী ১৬ বছরের কিশোরী

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন :
অসহায় গরীব বস্তির মেয়ে বলে তাড়িয়ে দিচ্ছে ধর্ষিতাকে। যারা সহযোগিতা করে মেয়ের সর্বনাশ ডেকে আনল তারাও এখন বলছে কিছুই জানে না। বিচারকদের দ্বারে দ্বারে বিচার চাইতে চাইতে হতাশ মেয়ের মা শিশ মহল। মেয়েটি মা-বাবা ভাই বোন নিয়ে সরকারি জায়গায় কোনমতে একটি ঘর তুলে বসবাস করছেন। মেয়েটি একটি মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ১৬ বছর বয়সের মেয়ে ইতিকে ধর্ষণ করে উধাও ধর্ষক ইয়াসিন। গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটের চরের প্রবাসী নুরু মিয়ার ছেলে ইয়াসিন (২২)। সামাজিক ও প্রভাবশালীদের চাপে কিশোরী ইতির গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য অসহায় মা-পরিবার দিশেহারা। কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। একেতো সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। সেখানে মেয়ে গর্ভবতী। কার পরিচয়ে এই সন্তান রাখবে। এই সন্তান কি রাখবে না নষ্ট করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না পরিবারটি। মেয়েটির বাড়িতে শুক্রবার (১০ মে) যাওয়ার পর বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে গর্ভবর্তী হওয়ার বিষয়টি বিস্তারিত জানা যায়।

বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ১৬ বছর বয়সের মেয়েকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি এখন গর্ভবর্তী হয়ে ৭মাসের অন্তসত্মা। ঘটনাটি ঘটেছে গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামে। নিউ মর্নিং সান রেষ্টুরেন্ট থেকে তেতৈতলা যেতে সরকারি জায়গায় একটি ঘর উঠিয়ে বসবাস করে শিশ মহল (৫০) এর পরিবার। মেয়েটির মার উকিল মা নাসিমা আক্তার (৪৫) স্বামী বাদশা মিয়া ও বাদশা মিয়ার মেয়ে স্বর্ণা মেয়েটিকে এই পথে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গর্ভবতি মেয়ের মা শিশমহল। ধর্ষক ইয়াসিন (২২) স্থানীয় তেতৈতলা হাবীবের সম্পর্কে পুত্রা। বাদশার মেয়ে স্বর্ণা গর্ভবর্তী মেয়েটির খালা। এই স্বর্ণা মেয়েটির বাড়ির মোবাইল নাম্বার দেয় ইয়াছিনকে। পরবর্তীতে সম্পর্কের এক পর্যায়ে নানী নাসিমার বাড়ীতে দুই রাত স্বামী স্ত্রী হিসেবে কাটায়। পরবর্তীতে ছেলেটি মেয়েকে ছেলের কথামতো না কাজ করলে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এমনকি মা ভাইদেরও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ফলে চুপচাপ ছেলের কথা মতো বাড়ি থেকে বের হলে সিএনজিতে করে ইয়াসিন তার আত্মীয়ার বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। মেয়েটি গর্ভবর্তী হয়ে পড়লেই ধর্ষক ছেলে ইয়াসিন সটকে পরে। ঘটনা ঘটিয়ে ইয়াসিনের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারটি এখন বন্ধ করে পালিয়েছে বলে মেয়েটি অভিযোগ করেছে।

মা শিশমহল জানান, মেয়ে ইতি (১৬) হঠাৎ করে বমি ও অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা সকলে মনে করেছি জন্ডিস হয়েছে। তাই চার বার জন্ডিসের জন্য মাথা ধোয়াতে নিয়েছে।বমির টেবলেট খাওয়াছি। ডাক্তার দেখিয়েছি কোনকিছুতেই মেয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে আমার উকিল মা নাসিমা আমাকে বলে ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখ কি হয়েছে। পরবর্তীতে ক্লিনিকে গিয়ে প্র¯্রাব পরীক্ষা করলেই ধরা পড়ে মেয়ের গর্ভবর্তীর বিষয়। পরবর্তীতে মেয়ের নানী নাসিমা বেগম মেয়েকে নিয়ে আবার পরীক্ষা করে। সেই পরীক্ষার রিপোর্টেও গর্ভবর্তীর বিষয়টি ধরা পরে।

পরবর্তীতে ধর্ষিতার নানী নাসিমা বলেন ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য। প্রয়োজনে কিছু টাকা পয়সা ছেলেদের থেকে আদায় করে দিবেন বলে ৭০হাজার টাকা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু টাকাটা আর পায়নি ধর্ষিতার পরিবার। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদফা বিচার বৈঠকও হয়। বিচার বৈঠকে ৭০হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্তও হয়। বাচ্চাটি নস্ট করার জন্য। কিন্তু ছেলের বাবা বিদেশে থাকায় আর ছেলেকে না পাওয়ায় বিষয়টি ওভাবেই থেকে যায়। স্থানীয় মেম্বার রিপন বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দুই মাসের সময় নেন। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন। পরবর্তীতে ছেলেটির আত্মীয় হাবীব মেয়ে ও মেয়ের মাকে বলেছেন মেয়েকে আমার পুত্রার জন্য নিব সন্তানও নেব। বিষয়টি নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত গর্ভবর্তী কিশোরীর উকিল নানী নাসিমার কাছে জিজ্ঞাসা করলে তার স্বামী বাদশা মিয়া বলেন আমরা কিছু জানি না। মেয়ে স্বর্না ধর্ষিতা কিশোরী ইতির খালা। সে কিছু বলতে চাইলেও তার বাবা বাদশা মিয়া বলতে দেননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যা পারেন করেন। আমরা কিছু জানি না। ধর্ষক ইয়াসিনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি স্থানীয় মহিলা মেম্বার মিনোয়ারা আক্তার ও ১নং ওয়ার্ড মেম্বার দিদার হোসেনের সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টির কিছুই জানেননা এবং এমন বিষয়ের সমাধানে অপারগ তারা। গতকাল শুক্রবার গজারিয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের জন্য গিয়েছিল পরিবারটি।
মেয়েটির মামা জাহিদুর রহমান জানান, থানায় গিয়েছিল। ওসি সাহেব বলেছেন এতদিন পরে এসেছেন কেন? চেয়ারম্যান মেম্বার ও স্থানীয়রা বিষয়টির মিমাংসা করার কথাছিল। কোর্টে যান কোর্টে গিয়ে মামলা করেন। আমরা কিছু করতে পারবো না।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুন অর রশিদের সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিকটিম থানায় যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডিএনএ টেস্ট করার জন্য ২০হাজার টাকার প্রয়োজন হবে সেই টাকা গরীব অসহায় পরিবার দিতে পারবে না। তাই লিগাল এইডের মাধ্যমে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি পরিবারটিকে।