জালিয়াত জসিমের কার্যকর অস্ত্র দৈনিক আমার বার্তা!

জালিয়াত জসিমের কার্যকর অস্ত্র দৈনিক আমার বার্তা!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
“আমি যদি বাইচা যাই, আপনেরে ঢাকা শহর ছাড়া করুম”। “তোরে ফাইরা হালামু, তুই আমার সামনে এসে দাড়া, তোর এত বড় সাহস তুই আমাকে ফোন দিছস, তোর নাম ক, তুই কে তোর পরিচয় আমি তদন্ত কইরা বাইর করতাছি।” “অরে যদি পাই কান ফাডাইয়া হালামু”- সন্ত্রাসীদের মতো এমন ভাষায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানুষকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন দৈনিক আমার বার্তা’র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জসিম। একদিকে তাঁর জাল-জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ায় বেসামাল ও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন অন্যদিকে দৈনিক পত্রিকাটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন মো. জসিম।
তিনটি শিক্ষা সনদ জাল করে পুলিশের এসবি, এনএসআই ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পাঁচ পাঁচটি বিভাগকে বোকা বানিয়েছেন তিনি। বৈধ ব্যবসা নেই, পারিবারিক দরিদ্রতায় শিক্ষা লাভের সুযোগও হয়নি তাঁর। মাত্র ৫/৬ বছরের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক, চলচ্চিত্র প্রযোজক, হজ্ব এজেন্সি, রেকর্ডিং স্টুডিওর মালিক বনে যান এই বিতর্কিত যুবক জসীম। তার ব্যাংক হিসাব ও আয়কর তথ্য নিতান্তই সাদামাটা। কিন্তু তার বিলাসী জীবনযাত্রা ও অর্থের দাপট বিষ্ময়কর। এলাকাবাসীর প্রশ্ন জসিমের এতো টাকা! এর উৎস কি? আবার সব সময়ই তিনি ছিলেন একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক। চেহারা বদলে এখন হয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থক। দৈনিক আমার বার্তার বিগত ৬ মাসের সংখ্যাগুলোতে গজারিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে বিষোদগারও করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় তার গ্রামের বাড়ী ছোট রায়পাড়াতে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে মো. জসিমের বাবা জানি আলম গ্রামের চৌকিদার হিসেবে চাকরির আগে মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলার কাজ করতেন । গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান জসিম একসময় মেঘনা ফেরিঘাটে পানি বিক্রি করত। এরপর সে এ কাজ ছেড়ে নানা ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতির কাজে লিপ্ত হয়। বখাটে প্রকৃতির হওয়ায় জসিমকে স্কুলে পাঠাতে পারেনি বাবা-মা। কখনো ফেরিওয়ালা আবার কখনো হকার হিসেবে কেটে যায় তার ১০/১২ বছর। তরুণ বয়সে রাজধানী ঢাকা এসে ড্রাইভিং শিখেন। কিছুদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাছে বছিলা বেড়ীবাঁধ এলাকায় ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের সাথে চলাফেরা করেন।
দৈনিক আমার বার্তার প্রিন্টার্স লাইনে উল্লেখ করা নির্বাহী সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, উপ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রাশেদ মোর্শেদসহ যারা সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পেয়েছেন তারা ব্যবসায়ী এবং কখনোই সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত নন এবং ছিলেনও না। ব্যবসায়িক স্বার্থে তাদের সচিবালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবু বকর সিদ্দিক রাজধানীর কারওয়ান বাজারে, মো. হাবিবুর রহমান ঢাকা স্টেডিয়াম মার্কেটে এবং রাশেদ মোর্শেদ বনানীতে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তাদের সুনামও রয়েছে। পাশাপাশি একদল তৎবিরবাজ ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধিকেও আমার বার্তার সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাইয়ে দিয়ে তাদের দিয়ে সচিবালয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তৎবির বানিজ্য। এদের সাংবাদিক হিসেবে জাহির করতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দৈনিকের অনলাইন ভার্সন থেকে সংবাদ হান্ট (চুরি) করে তাদের নামে (নিউজের ক্রেডিট লাইন) ছাপা হচ্ছে। এসব বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন পেশাদার সাংবাদিকরা।
জসিমের সহচর জাল সনদ চক্রের সদস্য গজারিয়ার নিজামুল হাসান শফিক দৈনিক আমার বার্তায় ছদ্মনামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এসব রিপোর্টে বানোয়াট, মনগড়া তথ্য, অশালীন ভাষা, উদ্দেশ্যপ্রনোদীত ও বিষোদগারের চিত্র স্পস্টই দেখা যাচ্ছে। কোন পেশাদার সাংবাদিকের পক্ষে কোন ভাবেই এমন দায়িত্বহীন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গজারিয়ার নাগরিক সমাজ। গজারিয়াবাসী জানতে চায়- নিজামুল হাসান শফিকের পেশাই বা কি, আর তিনি জেল খেটেছিলেন কেন। গজারিয়ায় জসিমের অপর দুই সহচর জাকির দর্জি ও মকবুল হোসেন জাল-জালিয়াতি নিয়েও বড়াই করছেন। গজারিয়ায় সাংবাদিকদের বড় অংশই মনে করে সরকারের গোয়েন্দা তদন্ত হলে আমার বার্তা সম্পাদকের আসল রূপ প্রকাশ পাবে।
এদিকে জাল-জালিয়াতির ঘটনা চাপা দিতে সরকারের নানা দফতরে ধর্ণা দিচ্ছেন মো. জসিম। রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও দৌড়ঝাঁপ করছেন দিনরাত। সরকারের সাথে প্রতারণা করার গুরুতর অপরাধের বিষয়টি জানতে পেরে রাজনৈতিক নেতারাও ছায়া দিচ্ছে না।
দৈনিক আমার বার্তার ডিক্লারেশন পেতে করা আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করা জসিমের তিনটি শিক্ষা সনদের মধ্যে ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাসের সনদ নিরীক্ষার পর ‘ভেরিফাইড এন্ড ফাউন্ড ফেক’ বলে লিখিত মন্তব্য করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করা দেখানো জাল সনদে উল্লেখ করা রোল নম্বরটি (৩২৭৩০৫) ছিল পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থী মো.মোজাফ্ফর হোসেনের। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী পাস সনদটি দেখলেই বোঝা যায় এটি জাল। গুরুতর এ অপরাধের তদন্ত ও দৈনিক আমার বার্তা’র ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদনও জানানো হয়েছে ঢাকা জেলা প্রসাশকের কাছে। তথ্যমন্ত্রী, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান, এটর্নি জেনারেল, এসবি প্রধান ও আতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে সুনির্দিস্ট অভিযোগগুলোর তদন্তে পৃথক পৃথক লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিক প্রমানাদিসহ অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, এনএসআই’র মহাপরিচালক ও ডিএফপি’র মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ###