অগ্রণী ব্যাংক এমডির বিরুদ্ধে ১০টি গুরুতর অনিয়ম: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শোকজ

অগ্রণী ব্যাংক এমডির বিরুদ্ধে ১০টি গুরুতর অনিয়ম: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শোকজ

গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী ঐ চিঠিতে কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৩ মার্চের মধ্যে ঐ চিঠির জবাব দিতে হবে। আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে পরিচালনা পর্ষদের অগোচরে ঋণ দেয়া, নবায়ন, শ্রেণিকরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আছে বে আইনিভাবে শাখা স্থানান্তর ও এজন্য সুদমুক্ত অগ্রীম ঋণ অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ।

এদিকে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড়ো পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ সংলগ্ন স্থানে আছে অগ্রণী ব্যাংকের আছাদগঞ্জ কর্পোরেট শাখা। তবে কোন এক অজানা কারণে এই শাখাটি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাও আবার বড়ো রাস্তা ছেড়ে ছোট গলির ভেতর। আর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হামিদ। তবে এজন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অনুমোদন ছিল না। এ বিষয়ে আছাদগঞ্জ শাখায় ব্যবস্থাপক প্রথমে তা অস্বীকার করেন। পরে স্বীকার করলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই শাখা স্থানান্তরের বিষয়ে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রথমে পরিচালনা পর্ষদ ও পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ এসব কিছুই না করে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট শাখা স্থানান্তরের অনুমোদন দেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শাখাটির নতুন ভবনের অগ্রীম ভাড়া বাবদ আব্দুল্লাহ মাহমুদ নামের এক ব্যক্তিকে ৮১ লাখ টাকা সুদমুক্ত অগ্রীম ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা এরিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া মুন গ্র“পকে বে আইনিভাবে ঋণ দেয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানকে সকল কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হামিদ এ নির্দেশ উপেক্ষা করে তাকে একাধিক বিভাগের দায়িত্ব দেন। মোট ১০ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ১৭ ফেব্র“য়ারি চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিবিধান ও অগ্রণী ব্যাংকের পর্ষদের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে আমানতকারীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৬ ধারার আওতায় আপনার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না আগামী ৩ মার্চের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজী হননি ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ।

জবাব যথাযথ না হলে, ধারা মোতাবেক তাকে অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।